Mon. Jun 17th, 2019

The Tech Tube Bd

Alive for Technology

স্মার্টফোন কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন

1 min read
smartphone

বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়ত বাজারে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন স্মার্টফোন। তাই আমরা সবাই অনেকটা কনফিউশনে পড়ে যাই যে কোনটা ছেড়ে কোনটা বাছাই করব আমাদের জন্য আর কোনটা আমাদের জন্য বেস্ট হবে। কারন নতুন নতুন সব আধুনিক স্মার্টফোন প্রযুক্তি আমাদের এই কনফিউশন এর দিকে ঠেলে দিচ্ছে ।

মোবাইল কেনার আগে আমাদের একটু যাচাই বাছাই করে নেয়া উচিত কারন ২০১৯ সালে এসে আমরা শুধু মোবাইল ফোন আমাদের আরাম আয়েশ এর জন্য ক্রয় করি না বরং আমাদের ডিজিটাল লাইফের একটা অতি প্রয়োজনীয় অংশ । তাই যারা একটি নতুন স্মার্টফোন কিনতে চান এবং আপনার বাজেট অনুজায়ী পারফেক্ট একটি মোবাইল চান তাহলে আপনার নিচের আলোচিত বিষয় গুলোর উপর খেয়াল রেখে আপনার শখের মোবাইলটি কেনা উচিত।

স্মার্টফোন এর দাম এবং বাজেট

smartphone budget and price
স্মার্টফোন কেনার ভূত যদি আপনার মাথায় চাপে তাহলে সবার প্রথমেই আপনার বাজেট ঠিক করে নিতে হবে। তা না হলে আপনার কনফিউশন শত গুন বেড়ে যাবে। তাই প্রথমে আপনি আপনার বাজেট ঠিক করেন যে আপনি কত টাকা মোবাইল কেনার জন্য খরচ করতে চান।

বাজেট ঠিক করার পর আপনার দেখতে হবে এই বাজেটে আপনার জন্য বেশ ডিল কোনটি। কারন আপনার যদি বাজেট কম হয় তাহলে আপনি লেটেস্ট সব টেকনোলজি আপনার স্মার্টফোন এ পাবেনা এটা সাবাবিক। এর জন্য এই বাজেটে কোন কোম্পানির কোন মোবাইলটি বেস্ট সেটি আপনাকে খুজে বের করতে হবে। এর জন্য আপনারদের হালকা রিচাজ করতে হবে।

আর যদি আপনার বাজেট এর কোন লিমিটেশন না থাকে তাহলে থাহলে আপনার উচিত ভালো কোন কোম্পানির এবং যে সকল স্মার্টফোনগুলো বাজারে হাইপ তৈরি করেছে সেগুলোর মধ্যে একটি বাছাই করে নেয়া। কারণ আপনার পছন্দের প্রায় সবকিছুই পাবেন এই স্মার্টফোনগুলোতে।

অপারেটিং সিস্টেম

operating system

স্মার্টফোনের ক্ষেএে আপারেটিং সিস্টেম খুবিই গুরুতপূণ । কারণ আপনার সফটওয়্যার রিলেটেড সব ইস্যু এই অপারেটিং সিস্টেমের উপর নিভর করে। আর বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও এস সিস্টেম হল অ্যান্ডরোয়েড । ছোট বড় প্রায় সব কোম্পানিই এই ও এস সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে তাদের স্মার্টফোনগুলোতে।

এছাড়া রয়েছে অ্যাপেল এর আইওএস। কিন্তু এই অপারেটিং সিস্টেমের মোবাইল গুলোর দাম একটু বেশি । যা অনেকের বাজেটের অনেক বাহিরে।

এছাড়া আরো কিছু রয়েছে কিন্তু সেগুলো বাজারে তাদের জনপ্রিয়তা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে উপরের দুটি অপারেটিং সিস্টেমের কারনে।

স্মার্টফোনে প্রসেসর

processor

প্রসেসর কে এক কথায় বলা যায় স্মার্টফোন এর ব্রেইন। এটাকে চিপসেটও বলা হয়ে থাকে। এর মধ্যে থাকে আপনার স্মার্টফোনের প্রসেসর, গ্রাফিক প্রসেসর, ক্যাশ ও বিভিন্ন ওয়্যারলেস মডিউল।

তাই আপনার মোবাইল এর ডাটা খুব দ্রুত প্রসেস করার জন্য আপনার প্রয়োজন পড়বে একটই শক্তিশালী প্রসেসর এর। কারন আপনি চাইবেন না একটা অ্যাপ এর আইকনে ক্লিক করে হাজার বছর বসে থাকতে। এছাড়া ভালো মানের গেইম খেলার জন্য ও আপনার প্রয়োজন পড়বে একটি ভালো প্রসেসর এর উপর।

প্রসেসর এর ভালো মন্দ নিভর করে এর ক্লক স্পিড, এর কোর সংখ্যা ও সাথে আরো কয়েকটি বিষয়ের উপর। বিভিন্ন কোম্পানি স্মার্টফোনের জন্য চিপসেট তৈরি করে। যেমনঃ ইন্টেল, কোয়ালকম, স্যামসাং, হুয়াওয়ে, অ্যাপল, মিডিয়াটেক ইত্যাদি।

ব্যাবহারকারী এর ক্ষেএে মিডিয়াটেক এগিয়ে থাকেলোও পারফরমেন্স এর দিক দিয়ে কোয়ালকোম স্ন্যাপড্রাগন সিরিজের চিপসেটই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া স্যামসাং এর এক্সিনস, হুয়াওয়ে এর কিরিন ও বেশ ভালো প্রতিযোগিতা করছে। আর অ্যাপল তাদের ফোনে নিজেদের শক্তিশালী প্রসেসর ইউজ করে। তাই আপনি যদি আপনার মোবাইলে রেগুলার মাল্টিটাস্কিং বা গেমিং করেন তাহলে ভালো একটি চিপসেট সম্বলিত মোবাইল অবশ্যই কিনবেন। সাথে কোন মডেলের জিপিইউ রয়েছে সেটাও দেখে নিবেন।

র‍্যাম

mobile ram

সাধারনত কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস গুলোতে ২ ধরনের মেমরি থাকে। একটি হল রেম আরেকটি রম।

রেম হল আস্থায়ী মেমরি। যার মধ্যে প্রসেসর এর ডাটা গুলোকে জমা রাখা হয় অস্থায়ীভাবে। তাই রেম এর স্টোরেজ একটু কম হয়ে থাকে রম এর তুলনায়। আপনার রম যত বেশি হবে আপনার মোবাইল তত স্মথলি চলবে। এর ফলে আপনি একসাথে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করলেও আপনার মোবাইল কম লেগ করবে।

বাজারে এখন লও লেভেল এর স্মার্টফোনগুলোতে ১ জিবি রেম দেয়া হয়ে থাকে। মিডরেঞ্জ বাজেট এর স্মার্টফোন গুলোতে ২ থেকে ৪ জিবি এবং ফ্লাগশিপ মোবাইল গুলোতে ৬-৮ জিবি রেম ও দেয়া হয়ে থাকে। বেশি দাম দিয়ে ভাল রেম সহ মোবাইল কেনার আগে একবার ভেবে নিভেন আপনার এত রেম লাগবে কিনা এবং প্রসেসর এর যথাযথ ব্যবহার করতে পারবে কিনা।

মিডরেঞ্জ বাজেট এর মোবাইল কিনলে দেখে নিভেন রেম জেন ২ জিবি এর কম না হয়। ফ্লাগশিপ মোবাইল কিনলে আপনার রেম নিয়ে না ভাবলোও চলবে।

রম

mobile ram

রম হল আপনার স্থায়ী স্টোরেজ। রম এর মধ্যে আপনার আপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ গুলো থাকবে। এছাড়াও আপনি এতে অ্যাপ,ছবি সহ সব ধরনের ডাটা রাখতে পারবেন। এটা আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে নিলেই হয়।

তবে আমার একটা সাজশেন থাকবে, আপনার চেস্টা করবেন আপনারা যেই মোবাইল ই নেন না কেন রম যেন ১৬ জিবি এর কম না হয়।

ডিসপ্লে

smartphone display
মোবাইল এর সব ইন্টার‍্যাকশন এর ডিসপ্লে দিয়েই হয়ে থাকে। এখন প্রায় সব মোবাইল এর ডিসপ্লে ৫ থেকে ৬.৫ ইঞ্চি হয়ে থাকে।আপনি এক হাতে যদি ব্যবহার করতে চান তাহলে ৬ ইঞ্চি উপরে না গেলেই ভালো হয়।

তারপরে আপনার খেয়াল রাখতে হবে রেজুলেশন এর দিকে । কারন রেজুলোশন যত ভালো হবে মোবাইল এর স্কিন তত স্পষ্ট ও ঝকঝকে দেখায়। তাই কমপক্ষে এইচডি রেজুলেশন এর ডিসপ্লে এর নেয়া ভালো। আজকাল ভালো মানের ফোনেগুলোতে ফুল এইচডি থেকে ৪কে রেজুলেশন ডিসপ্লে পাওয়া যায়। স্কিনের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাতও দিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

বর্তমানে যেসকল স্মার্টফোন গুলো বাজারে রয়েছে এদের আস্পেক্ট রেশিও ১৮;৯ বা ১৮.৫;৯ হয় যা বেশি চিকন হয়ে থাকে। যা অনেকটা প্রিমিয়াম ফিল দেয়। প্যানেলটি কি এলসিডি, ওলেড নাকি এমোলেড সেটিও দেখতে পারেন স্মার্টফোন কেনার আগে । কারন একক প্যানেলে এক এক ফিচার থাকে।এলসিডি স্কিন এর চেয়ে সাধারন্ত ওলেড এবং এমোলেড এর দাম বেশি হয়ে থাকে।

ক্যামেরা

smartphone camera

মোবাইল আমাদের মত মধ্যবিওদের ডিএসএলআর বা মিররলেস ক্যামেরার স্বপ্ন পূরণ করছে। ক্যামেরার ক্ষেএে আগে শুধু পিছনে একটি সামনে একটি ক্যামেরা থাকত কিন্তু বর্তমানে পিছনে ২ বা ৩ টী ক্যামেরা দেখা যায়( Pop Up selfie camera)। মোবাইল এর মেগাপিক্সল যত বেশি তত বড় ডিসপ্লে তে তা দেখতে সুবিধা। এটা নিয়ে অনেকের ভুল ধারনা রয়েছে যে মেগাপিক্সল যত বেশি ছবি তত ভাল হবে। তাই মেগাপিক্সেলই সবকিছু নয়।

ক্যামেরার আপাচার বা আইএসও সেন্সিটিভিটি এর দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। আপাচার যত ভালো হবে তা তত আলো বেশি গ্রহণ করতে পারে। তাতে করি ভালো ছবি কোয়ালিটি পাওয়া যাবে। পিক্সল সাইজ যেন বড় থাকে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

ভিডিও এর সময় আপনার মেইন ক্যামেরা যেন ৩০ ফ্রেম/সেকেন্ড রেটে ১০৮০ পি তে ভিদিও করা যায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ৪কে রেজুলেশনে ভিডিও করতে পারলে তো আর কোন কথায় নেই। স্মার্টফোনে ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন ফিচার থাকে বলে ভিডিও কাঁপেনা। এতে ভিডিও কোয়ালিটি ভালো হয়। এই ফিচারটি ও আছে কিনা দেখে নিতে পারেন।

ব্যাটারি

mobile battery

আমরা সবাই চেস্টা করি যেন আমাদের মোবাইলটী যেন সারাক্ষন অন থাকে। এর জন্য আপনাদের প্রয়োজন পড়বে ভালো মানের ব্যাটারি। কিন্তু স্মার্টফোনের ক্যাপাবিলিটি যেমন বেড়েছে সেই তুলনায় এর ব্যাটারি ব্যাকআপ টাইম খুব বেশি বাড়েনি। তাই বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারিওয়ালা স্মার্টফোন কেনা উচিত। আজকাল ৩০০০ mAh এর কম মানের ব্যাটারির ফোন না নেয়াই উচিত। তা না হলে আপনার অনেক বেগ পোহাতে হবে। তাই আপনার ব্যাটারি ব্যাকাপ এবং ফাস্ট চার্জ কাজ করে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে পারেন। এতে করে আপনার মোবাইল দ্রুত চাজ হবে।

আপনি যদি ৪০০০ mAh এর ব্যাটারি যুক্ত স্মার্টফোন নেন তাহলে হেভি ব্যবহারে আপ্নারা ১২ ঘন্টার মত বেকাপ পাবেন।

স্মার্টফোন বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন দামের ও কনফিগারেশনের স্মার্টফোন পাওয়া যায়। শাওমি (Xiaomi), হুয়াওইয়ে, অপো, আসুস এবং ওয়ানপ্লাস মিডরেঞ্জ দামে অসাধারণ সব স্মার্টফোন দিচ্ছে। অবশ্য, “ভ্যালু ফর মানি” বলেও একটা কথা আছে। বেশি বাজেট হলে আপনি স্যামসাং গ্যালাক্সি, গুগল পিক্সেল কিংবা অ্যাপল আইফোন কিনতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

যোগাযোগ করুন